• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে কাজ না করেই কর্মসৃজনের টাকা উত্তোলন

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় স্থান পাওয়া ৩৯ জনের মধ্যে ১২ জন কোনো কাজ না করেই শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে নিয়মিত তুলছেন টাকা। এছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এক ইউপি সদস্য তাঁর মেয়েসহ তিনজনের নামে টাকা তুলে তা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের যোগসাজশে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, চৌকিদারসহ সরকারী দলের নেতারা একাধিক নাম তালিকাভুক্ত করে কোন কাজ না করেই হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। এতে প্রকৃত হতদরিদ্র দুস্থরা সুবিধা বঞ্চিত হওয়াসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও সরকারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই ইউনিয়িনের  ৮ নং ওয়ার্ডের মাটিকাটা দলের তালিকায় নাম আছে ৩৯ জনের। এর মধ্যে নিয়মিত কাজ করে মাত্র ২৭ জন। বিভিন্ন কারণবশত: মাঝে মাঝে নানা অজুহাতে এদেরও অনেকে অনুপস্থিত থাকে। আর বাকি ১২ জনের ৭ জন একেবারেই আসেনা। কোনদিন কাজ না করলেও তাদের নিয়মিত হাজিরা দেখানো হয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের বিলও দেওয়া হয়েছে। দুই ধাপে তারা প্রত্যেকে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা করে পেয়েছেন। তৃতীয় ধাপও প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং চলতি মাসেই আরও ১৬ হাজার করে টাকা পাবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তালিকার মধ্যে তিন জনের টাকা একাই আত্মসাৎ করছেন সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মেরিনা বেগম ও তার স্বামী ফজলার রহমান। তারা তিনটা নাম লিখিয়েছে তালিকায়। তাদের মধ্যে একজন তাঁর মেয়ে মজিদা বানু। শহরের নয়াটলা এলাকায় বসবাস করেন তিনি। কখনই মাটিকাটা দূরের কথা এসংক্রান্ত কোন কিছুতেই অংশগ্রহণ করেননা মজিদা বানু।
অন্য দুইজন ওই ওয়ার্ডের হযরত আলীর ছেলে আজিনুর ও আফসার আলীর স্ত্রী নুর বানু। এই দুইজনের কেউই জানেনা তাদের নাম তালিকায় আছে।  অথচ তাদের নামের জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড দিয়ে মোবাইল সীম তুলে বিকাশ একাউন্ট খুলে নিয়মিত  টাকা তুলে আত্মসাৎ করছেন মেরিনা বেগম ও তাঁর স্বামী। একইভাবে ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ডের তালিকাতেও একাধিক নাম ঢুকিয়ে মেরিনা ও তার স্বামী অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নুরবানুর স্বামী বৃদ্ধ আফসার আলী বলেন, ” আমার স্ত্রীর নাম যে মাটিকাটার তালিকায় আছে আমরা জানতাম না। আপনারা খোঁজখবর নেয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে মেরিনার স্বামী ফজলার রহমান আমাদের বাড়িতে এসে এই মোবাইল সীমটা দিয়ে বলেন, আজ থেকে যেন মাটি কাটতে যাই। সেজন্যই আমি আজ প্রথম কাজে এসেছি। এতদিন মহিলা মেম্বার টাকা তুলে খেয়েছেন। কিন্তু কিভাবে এই কাজ করেছেন তা আমার জানা নাই।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মেরিনার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্বামী ফজলার রহমান ফোন রিসিভ করে প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে বলেন, সবাইতো দুই একটা নাম দিয়ে টাকা নেয়। তাতে সমস্যা কি? অফিসও জানে”।
ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বাবু পাইলট বলেন, যে কোন ধরণের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমি। আমার পরিষদের যে কেউ অবৈধ কোন কাজ করলে তা বরদাশত করা হবেনা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কর্মসৃজন প্রলল্পের বিষয়টা প্রকল্প কর্মকর্তার দেখার কথা। যদি অনিয়ম হয় ওই দপ্তরের লোকজনও জড়িত।
এ নিয়ে কথা হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদুল ইসলামের সাথে, তিনি বলেন আমি এ কর্মস্থলে নতুন। তালিকা করেছেন আগের প্রকল্প কর্মকর্তা। অনিয়ম হয়ে থাকলে তখন হয়েছে। তবে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে চিরুনি অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে সব যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ